TikTok India Return 2025: কেন্দ্র সরকারের বড় আপডেট, ভারতে ফিরছে টিকটক?

এই মুহূর্তে ইন্টারনেট দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে চর্চা হচ্ছে, তা হলো – ভারতে কি TikTok অ্যাপ আবার ফিরতে চলেছে? পাঁচ বছর আগে যে জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মটি ব্যান হয়েছিল, যার কারণে Facebook, Instagram-এর মতো প্ল্যাটফর্ম এনেছে ‘Reels’ ফিচার, তাকে ঘিরেই ফের জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। আসলে সম্প্রতি TikTok-এর ওয়েবসাইট কিছু সময়ের জন্য ভারতে অ্যাক্সেসযোগ্য হওয়ায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, প্ল্যাটফর্মটি হয়তো খুব শিগগিরই ফিরছে। সেক্ষেত্রে এবার কেন্দ্র সরকারের তরফে এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো।

TikTok নিয়ে কেন্দ্র সরকারের প্রতিক্রিয়া

হালফিলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে, টিকটকের মতো কোনো অ্যাপকে ফেরানোর বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে এক্ষেত্রে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। অন্যদিকে সরকারি মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ভারত সরকার টিকটক আনব্লক করার কোনো নির্দেশ দেয়নি। এ ধরনের যেকোনো দাবি বা সংবাদ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর।

কেন ব্যান হয়েছিল TikTok?

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে ২০২০ সালের জুনে জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকার এবং টিকটকসহ মোট ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে। সেই সময় ভারতে প্রায় ২০ কোটি মানুষ টিকটক ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করা হয়। ওই সময় অভিযোগ ছিল, ভারতীয় টিকটক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চীনা সরকারের হাতে চলে যেতে পারে। চীনের আইন অনুযায়ী, সেখানকার যেকোনো কোম্পানি প্রয়োজনে সরকারকে ডেটা দিতে বাধ্য — এই আশঙ্কার কারণেই অ্যাপটি এদেশে ব্যান হয়েছিল।

তাছাড়া টিকটক ব্যানের পেছনে তৎকালীন ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাতও বড় কারণ ছিল। গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারানোর পরপরই কেন্দ্র সরকার ডিজিটাল স্ট্রাইকের অংশ হিসেবে একাধিক চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দেয়।

TikTok সম্পর্কিত সাম্প্রতিক জল্পনার কারণ

গত আগস্ট মাসে স্বল্প সময়ের জন্য ভারতে কিছু মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কে টিকটকের ওয়েবসাইট খোলা যাচ্ছিল। যদিও তা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল বলে পরে জানা যায়। তবে, এর জেরেই গুঞ্জন শুরু হয় যে টিকটক শিগগিরই ভারতে ফিরে আসতে চলেছে।

আগামী দিনে কী হতে পারে?

বর্তমানে চীনের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা বদলালেও, সরকার এখনও টিকটক বা অন্য কোনো ব্যান হওয়া চীনা অ্যাপ পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হয়, তাহলে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির প্রেক্ষিতে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *