Deepfake Video Scam India: কোহলি ও নির্মলা সীতারমণের নাম ভুয়ো প্রচারে ব্যবহার! তদন্তে পুলিশ

প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নতুন প্রতারণা — ডিপফেক ভিডিওর জালে এবার নামজাদা ব্যক্তিত্বরাও!
প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনই প্রতারণার কৌশলও বদলে দিয়েছে। সম্প্রতি ডিপফেক ভিডিও ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ভুয়ো বিনিয়োগ অ্যাপের প্রচারমূলক ক্লিপ, যেখানে দেখা যাচ্ছে দেশের নামী ব্যক্তিত্বদের মুখ। ক্রিকেটার বিরাট কোহলি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি, এমনকি অভিনেতা হৃতিক রোশন — সকলেই এই প্রতারণার ফাঁদে ‘ব্যবহৃত’।

ভুয়ো স্টক অ্যাপের প্রচারে সেলিব্রিটিদের ডিপফেক ভিডিও!

১ থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে বেঙ্গালুরু সাইবার বিভাগের সাব-ইন্সপেক্টর রোহিনী রেড্ডি বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক ভিডিও লক্ষ্য করেন, যেখানে দেখা যায় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষকে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করতে অনুরোধ করছেন।
ভিডিওগুলিতে বলা হয়েছে — ওই অ্যাপে বিনিয়োগ করলে ₹১০,০০০ থেকে ₹১ লক্ষ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যাবে!
কোথাও আবার দেখা যাচ্ছে, এই অ্যাপ অনলাইন গেমে বিনিয়োগ করে দ্রুত লাভের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

ভিডিও পরীক্ষা করেই ধরা পড়ল ডিপফেক প্রযুক্তি

রোহিনী রেড্ডি সন্দেহজনক ভিডিওগুলি বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠালে সেগুলি প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। তদন্তে প্রমাণিত — এই ভিডিওগুলি ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।
অর্থাৎ, আসল ব্যক্তির মুখ ও কণ্ঠস্বর এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল করে ভিডিও সম্পাদনা করা হয়েছে, যা বাস্তবের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিল রয়েছে।

 তদন্তে নেমেছে বেঙ্গালুরু সাইবার ক্রাইম পুলিশ

ঘটনার পর বেঙ্গালুরু পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ তথ্য প্রযুক্তি আইন (IT Act) এবং BNS ধারা ৩১৮ (প্রতারণা)-এর আওতায় মামলা দায়ের করেছে।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন —
“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (AI) ব্যবহার করে এটি একটি বিশাল প্রতারণা চক্র। অপরাধীরা দেশের সেলিব্রিটিদের মুখ ব্যবহার করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের পেছনে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই গ্রেপ্তার হতে পারে মূল অভিযুক্তরা।

ডিপফেক প্রতারণা থেকে নিজেকে বাঁচাতে করণীয়

কোনও ভিডিও বা বিজ্ঞাপন দেখে বিনিয়োগ করবেন না, উৎস যাচাই করুন।
সরকারি বা ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট/অ্যাপ ছাড়া কোনও অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করবেন না।
সন্দেহজনক ভিডিও বা প্রচার দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম পোর্টালে (cybercrime.gov.in) রিপোর্ট করুন।

ডিপফেক প্রযুক্তি এখন শুধু বিনোদন বা মিম তৈরির উপকরণ নয় — এটি হয়ে উঠেছে নতুন যুগের প্রতারণার হাতিয়ার। বিরাট কোহলি থেকে নির্মলা সীতারমণ— কারও নামই নিরাপদ নয়। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার রুখতে এখন দরকার কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগ নয়, সাধারণ মানুষেরও ডিজিটাল সচেতনতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *