২০২২ সালের নভেম্বরে আত্মপ্রকাশ করেছিল চ্যাটজিপিটি — ওপেনএআই-এর এক বিস্ময়কর উদ্ভাবন, যা মুহূর্তে পাল্টে দিয়েছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগৎ। এখন সেই সংস্থা নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছে তাদের ওয়েব ব্রাউজার “অ্যাটলাস” নিয়ে। গুগল ক্রোমকে টক্কর দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে এই ব্রাউজার। কিন্তু উচ্ছ্বাসের মাঝেই উঠছে শঙ্কার সুর।
সম্প্রতি LayerX Security-এর এক রিপোর্টে ধরা পড়েছে, অ্যাটলাস ব্রাউজারটি আদতে যতটা নিরাপদ মনে করা হচ্ছিল, বাস্তবে তা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাকাররা গোপন কোড বা কমান্ড ব্যবহার করে অনায়াসে ব্রাউজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, এবং সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় — ব্যবহারকারীরা টেরই পান না যে তাঁদের সিস্টেম আক্রান্ত হয়েছে।
দুর্বল অ্যান্টি-ফিশিং সুরক্ষা নিয়ে আশঙ্কা
রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাটলাস এখনও পর্যন্ত কোনও শক্তিশালী অ্যান্টি-ফিশিং সিস্টেম ব্যবহার করছে না। এর ফলে ব্যবহারকারীরা গুগল ক্রোম বা মাইক্রোসফট এজ-এর তুলনায় প্রায় ৯০% বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন হ্যাকারদের আক্রমণের মুখে।
‘মেমরি’ ফিচারই মূল উদ্বেগের কারণ
ওপেনএআই ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এনেছিল একটি বিশেষ ফিচার — “মেমরি”। এই ফিচার ব্যবহারকারীর নাম, পছন্দ, আগ্রহ ইত্যাদি তথ্য মনে রেখে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উন্নত করার দাবি করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুবিধাই এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি।
হ্যাকাররা যদি কোনওভাবে এই মেমরি সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে, তবে তারা ব্যবহারকারীর তথ্য সহজেই সংগ্রহ করতে পারবে — এমনকি ব্যবহারকারী ডিভাইস বন্ধ করলেও বা পরে লগ ইন করলেও। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা কার্যত প্রশ্নের মুখে।
উন্নতির পথে ঝুঁকির ছায়া
মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ৮০০ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী পেয়েছে চ্যাটজিপিটি। স্বাভাবিকভাবেই ওপেনএআই এখন Atlas ব্রাউজারকে একটি নতুন আয়-উৎস হিসেবে দেখছে — বিশেষ করে বিজ্ঞাপন ও অনলাইন সার্চের মাধ্যমে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী না করা হয়, তবে এই ব্রাউজার হয়ে উঠতে পারে হ্যাকারদের পরবর্তী প্রিয় লক্ষ্য। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যদি নিরাপত্তা পিছিয়ে থাকে, তবে অগ্রগতি নয়, তা হতে পারে এক নতুন বিপদের সূত্রপাত।
Atlas ব্রাউজার নিঃসন্দেহে প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত। কিন্তু সেই দিগন্তে আলো যেমন আছে, তেমনি ছায়াও। এখন সময় এসেছে ওপেনএআই-এর — উদ্ভাবন ও নিরাপত্তার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য স্থাপনের।
