রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL) আবারও প্রযুক্তিগত বিকাশের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। সম্প্রতি সংস্থাটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নিজস্ব 4G নেটওয়ার্ক চালু করেছে, যা ভারতের টেলিকম ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া রবিবার ঘোষণা করেছেন, আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যেই BSNL-এর সমস্ত 4G টাওয়ার 5G-তে উন্নীত করা হবে। তাঁর কথায়, “ভারত এখন ৪জি প্রযুক্তির বিশ্বমানের ক্লাবে প্রবেশ করেছে। এতদিন এই প্রযুক্তিতে আধিপত্য ছিল কেবল সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ফিনল্যান্ডের মতো দেশের হাতে। এবার ভারত নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রযুক্তির জোরে সেই ক্লাবের অংশ।”
সিন্ধিয়া আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি BSNL-এর ৯২,৫৬৪টি টাওয়ার উদ্বোধন করেছেন, যা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, ভারুচ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত দেশীয় 4G স্ট্যান্ডার্ডে সংযুক্ত করবে। এটি ভারতের আত্মনির্ভর প্রযুক্তি সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে যেখানে ইতিমধ্যেই রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেল তাদের 5G নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে, সেখানে BSNL তাদের নতুন পরিষেবা “Q-5G” নামে বাজারে আনতে চলেছে। এখানে ‘Q’ প্রতীক দেশীয় প্রযুক্তির গর্বের প্রতিফলন। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীদের ভুয়া লিঙ্ক ও স্প্যাম এসএমএস থেকে রক্ষা করতে BSNL চালু করেছে উন্নত অ্যান্টি-স্মিশিং ও অ্যান্টি-স্প্যাম সুরক্ষা ব্যবস্থা।
এর আগে, টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DoT) BSNL-এর জন্য প্রায় ₹47,000 কোটি টাকার মূলধন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। মন্ত্রী সিন্ধিয়া সংস্থাকে আহ্বান জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের মোবাইল পরিষেবা ব্যবসা অন্তত ৫০% বৃদ্ধি করতে। যদিও জুলাই মাসে BSNL প্রায় ১.০১ লক্ষ গ্রাহক হারিয়েছে, এবং এর সহযোগী সংস্থা MTNL-এর গ্রাহকসংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে, তবু সরকারি সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জোরে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
এই বছর BSNL পাবে অতিরিক্ত ₹6,982 কোটি সরকারি তহবিল, যার আগে প্রতিষ্ঠানটি মোট ₹3.22 লক্ষ কোটি টাকা সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রায় ₹89,000 কোটি টাকার 4G ও 5G স্পেকট্রাম, যা দুই বছর আগে বরাদ্দ করা হয়েছিল।
দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত 4G থেকে 5G-তে রূপান্তরের এই উদ্যোগ শুধু সংযোগ নয়, এটি ভারতের ডিজিটাল আত্মনির্ভরতার এক নতুন অধ্যায়—যেখানে প্রতিটি টাওয়ার, প্রতিটি সিগন্যাল, প্রতিটি কল গেয়ে উঠবে “মেড ইন ইন্ডিয়া”।
