ভারতের টেলিকম দুনিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল BSNL। টাটা কমিউনিকেশনসের সহযোগিতায় রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থা আনল সর্বভারতীয় eSIM পরিষেবা, যার ফলে আর কোনও ফিজিক্যাল সিম কার্ডের প্রয়োজন হবে না। এখন গ্রাহকরা সহজেই তাদের ডিভাইসে একটি QR কোড স্ক্যান করে eSIM সক্রিয় করতে পারবেন, আর উপভোগ করতে পারবেন 2G, 3G ও 4G সংযোগের সুবিধা।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
টাটা কমিউনিকেশনসের MOVE প্ল্যাটফর্ম দ্বারা চালিত প্যান-ইন্ডিয়া eSIM পরিষেবা।
QR কোডের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজ eSIM অ্যাক্টিভেশন।
ডুয়াল-সিম সাপোর্ট, যা বিশেষত IoT এবং বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য কার্যকর।
আরও নিরাপদ, নমনীয় এবং ফিজিক্যাল সিমবিহীন অভিজ্ঞতা।
টাটা কমিউনিকেশনস কোলাবোরেশন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড (TCCSPL) এই প্রকল্পকে সমর্থন করছে। কোম্পানির দাবি, এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা মসৃণ করবে না, বরং নতুন যুগের ডিজিটাল সংযোগের দরজা খুলে দেবে।
বিশেষত যারা ডুয়াল-সিম ডিভাইস ব্যবহার করেন, তারা এখন ফিজিক্যাল সিমের পাশাপাশি eSIM ব্যবহার করতে পারবেন। আবার বিদেশ ভ্রমণের সময়ও স্থানীয় নেটওয়ার্কে সহজ ও নিরাপদ সংযোগ পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী BSNL-এর ৪জি নেটওয়ার্কও চালু করেছেন। এর জন্য স্থাপন করা হয়েছে ৯৭,০০০-এরও বেশি টেলিকম টাওয়ার, যার অনেকগুলি সৌরশক্তি নির্ভর। এগুলি দেশের ২৬,০০০-এরও বেশি প্রত্যন্ত ও সীমান্তবর্তী গ্রামে সংযোগ দেবে।
এখনও যেখানে Reliance Jio এবং Bharti Airtel তাদের 5G পরিষেবা প্রসারিত করেছে, সেখানে BSNL নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ছে। সংস্থার আসন্ন Q-5G নেটওয়ার্কও নতুন আশার সঞ্চার করছে। এখানে “Q” অর্থ “Quantum”। পাশাপাশি গ্রাহকদের নিরাপত্তার জন্য BSNL অ্যান্টি-স্প্যাম ও অ্যান্টি-স্মিশিং সুরক্ষাও নিয়ে এসেছে।
BSNL-এর এই নতুন eSIM পরিষেবা ভারতের মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে।
